প্রতারণার স্বীকার ৯০ বছর বয়সী আতেজান নেছা / হারাতে বসেছে ভিটে মাটি
অন্যান্য ঢাকা

প্রতারণার স্বীকার ৯০ বছর বয়সী আতেজান নেছা / হারাতে বসেছে ভিটে মাটি

সবার সংবাদ ডেস্ক:

জামাতার প্রতারণায় মেহেরপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর ক্লাব পাড়া এলাকার আতেজান নেছা নামের ৯০ বছর বয়সী এক বিধবা বৃদ্ধা হারাতে বসেছে তার ভিটে মাটি। আতেজান নেছা শ্যামপুর ক্লাবপাড়া মৃত মাজেদ মীরের স্ত্রী। নব্বই বছরের এই বৃদ্ধা শেষ বয়সে স্বামীর ভিটে মাটি রক্ষায় নিজের জামাতার উপর ভরসা করেছিলেন কিন্তু সেই জামাতা এখন হয়েছেন ঘরের শত্রু।

হান্নান নামের এক ব্যক্তির সাথে হাত মিলিয়ে মামলা পরিচালনার কথা বলে শাশুড়ির কাছ থেকে কৌশলে জমি লিখে নিয়েছেন হান্নান ও তার নিজ নামে। অসহায় আতেজান এখন সহায় সম্বল সব হারানোর ভয়ে পাগল প্রায়। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে নিজের এই শেষ সম্বল টুকু দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে খয়রদ্দিনের ছেলেরা ও হান্নান।

জানা গেছে, স্বামী মাজেদ মীর ও ছেলেসহ আট সন্তান নিয়ে ১২ শতকের এই ভিটাতেই প্রায় ৭ যুগ ধরে বসবাস পরিবারটির। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া স্বামী মাজেদ মীর কর্মক্ষম হয়ে পড়লে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাড়ির উঠানে থাকা দুটি গাছ কর্তন করেন। মাজেদ মীর তার জমিতে থাকা কয়েকটি গাছ কাটলে বাধা দেন ভাই খয়রদ্দিন। মাজেদ মীর জমির মালিক নয় বলে দাবী করেন ভাই খয়রদ্দিন। এক পর্যায়ে মাজেদ মীরের নামে আদালতে মামলা করেন খয়রদ্দিন। দীর্ঘদিন মামলা চলমান থাকার পর মাজেদ মীর অসুস্থ থাকায় বড় জামাতা মোশারফ হোসেনকে মামলা দেখাশোনার দ্বায়িত্ব দেন।

মামলা চলমান থাকতেই ২০১১ সালে মাজেদ মীর মৃত্যুবরণ করেন। দায়িত্ব পড়ে স্ত্রী আতেজানের উপর। জামাতা মামলা দেখভালের  একপর্যায়ে আতেজান নেছার অজান্তেই ২০১০ সালে  মামলার ডিগ্রী হয় আতেজান নেছার পক্ষে। তবে জমির মালিকানা যে তিনি পেয়েছেন এ বিষয়টি জানানো হয়নি এই বৃদ্ধাকে। তবে বৃদ্ধা শাশুড়িকে মামলায় হেরে যাবার কথা জানিয়ে কাগজপত্রে টিপসহি নিয়ে ১২শতক জমির ৬ শত করে রেজিস্ট্রি করে নেন জামাতা মোশারফ ও হান্নান। কিন্তু বৃদ্ধা আতেজান নেছা অনুমানই করতে পারেননি সরল বিশ্বাসে দেওয়া টিপ সইয়ের কারণে সে হারাতে বসেছে তার ভিটামাটি।

এদিকে আতেজান নেশার পক্ষে মামলার ডিগ্রী হওয়ায় মাজেদ মীরের ভাই খইরুদ্দিন আদালতে আবারো আপিল করেন। অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে পারেনি বলে পূর্ণ দাখিল মামলা করেন। যে মামলা এখনো চলমান রয়েছে। নিজের মালিকানা জমি নিয়ে এতকিছু ঘটে গেছে তার কোন কিছুই জানেন না নব্বই উর্ধ্ব  আতেজান  নেছা এবং তার মেয়েরা। বর্তমানে ওই জমি নিয়ে তিন পক্ষের মামলা চলমান আছে। মামলা চলমান থাকা সত্তে¡ও প্রতিনিয়তই জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

আতেজান নেছার মেয়ে শ্যামপুর ইউনিয়নে মহিলা সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য নাশেদা আক্তার ঊর্মি বলেন, মামলার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ২০১০ সালে মামলা আমাদের পক্ষে রায় এবং আমার মায়ের নামে ডিগ্রি হয়েছে। আবার সেই জমি আমার বোন জামাই মোশারফ হোসেন ও হান্নান নামের এক ব্যক্তির কাছে আমার মা নাকি বিক্রিও করে দিয়েছে।

আমার মা লেখাপড়া না জানা এবং বৃদ্ধ থাকায় তাকে ভুল বুঝিয়ে এমনভাবে প্রতারণা করে আমার মায়ের সম্বলটুকু এখন তারা কেড়ে নিতে চাইছে। তাই আমাদের উপর জমি জবরদখলের হুমকি ও হামলা মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে। আদালতে এখনো সেই মামলা চলমান রয়েছে। মামলা চলমান থাকা সত্তে¡ও প্রতিনিয়তই আমার মায়ের বাড়ি উচ্ছেদ করে জমি জবরদখল করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে ওই সকল প্রতারক ব্যক্তিরা।

এবিষয়ে জামাতা মোশারফের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তবে তার স্ত্রী আদুরী খাতুন জমি লিখে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। খয়রদ্দিনের ছেলে ইন্তার মুঠোফনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হান্নান ও তার লোকজন জমি দখল করতে এসেছিলো। পরে আমরা লোকজন নিয়ে জমিতে গেলে তারা চলে যায়। আমরা গতকাল জায়গাটি ঘিওে দখল করে রেখেছি। শরিকানা সম্পত্তি তাই সব চাচারা মিলে বসে সমাধান করার কথা রয়েছে।