মেহেরপুরে খেলার মাঠ আছে, খেলার পরিবেশ নেই
ঢাকা শিক্ষা

মেহেরপুরে খেলার মাঠ আছে, খেলার পরিবেশ নেই

সবার সংবাদ ডেস্ক:

মেহেরপুরের গাংনীর কাস্টদহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙ্গীনায় খেলার মাঠ থাকলেও সেখানে কোন প্রকার খেলাধুলা করতে পারছে না বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সব সময় মাঠে পানি জমে থাকায় পঁচা দুর্গন্ধ পানিতে একদিকে যেমন বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে অন্যদিকে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত অভিভাবক ও শিক্ষকেরা। তবে শিক্ষা অফিস বলছে, বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাটের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, ১৯৭০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণ করা হয় ২০১৮ সালে। সে সময় বিদ্যালয় মাঠে ছিল বড় গর্ত। সে গর্ত ভরাট করে বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হলেও মাঠের নিচু জায়গা ভরাট করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে জমে হাঁটু পানি। পানি নিষ্কাশনেরও ব্যবস্থা না থাকায় নানা ধরনের কচুরী পানা ঘাস পচে দুর্গন্ধ হয়। এতে পরিবেশ কলুষিত হয়। অন্যদিকে বিদ্যালয়ে আগত শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। তারা শ্রেণিকক্ষে বসে থাকে। তাছাড়াও শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও বেশ চিন্তিত বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৌরভ জানায়, খেলার সময় পচা পানিতে ফুটবল বা ক্রিকেট বল পড়ে যায়। ওই বল তুলতে গিয়ে জামা কাপড় নষ্ট হয়। তাছাড়া পায়ে নানা ধরণের খোচ ও পচা শামুকে কেটে যায়। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই কথা জানালেন চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী জুলেখা খাতুন।

শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির সময় অনেক সময় সাপ ব্যাং পানি থেকে উঠে ক্লাসরুমে চলে আসে। ভয় পেয়ে অনেকেই বিদ্যালয়ে আসেনা। তারা বিদ্যালয় মাঠে মাটি ভরাটের দাবী জানান।

কাষ্টদহ গ্রামের পারভেজ হোসেন জানান, তার ছেলে এই বিদ্যালয়ে পড়ে। খেলার মাঠ না থাকায় তারা খেলতে পারে না। ফলে নানা ধরণর ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে পড়ছে। স্থানীয় লোকজনও খেলাধুলা করতে পারেনা। খেলার সুযোগ না থাকায় অনেকেই নানা ধরনের অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।

সাইদুর রহমান জানান, মাঠটি সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু পানি জমে। বড় ছেলে মেয়েরা কোনমতে বিদ্যালয়ে আসলেও বিপদে পড়ে শিশু শিক্ষার্থীরা। অভিভাবকদের কোলে চড়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হয় তাদের।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহার খাতুন  জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধনের সময় এমপি সাহিদুজ্জামান খোকন মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেন। তিনি কিছু অংশ মাটি ভরাট করায় কোন রকম শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করা যায়। তাও বেশি বৃষ্টি হলে সমস্যা হয়। বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে। গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ নাসির উদ্দীন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাটি ভরাটের উদ্যোগ নেয়া হবে।